দৈনিক সংবাদের কথা

কিশোরগঞ্জে শীতের আমেজ টাটকা খেজুর রসের সন্ধানে রসপ্রেমীদের ঢল

কিশোরগঞ্জে শীতের আমেজ টাটকা খেজুর রসের সন্ধানে রসপ্রেমীদের ঢল

কিশোরগঞ্জে শীতের আমেজ টাটকা খেজুর রসের সন্ধানে রসপ্রেমীদের ঢল


​কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: নিজাম উদ্দীন 


​শীতকাল মানেই বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ খেজুরের রস। শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথেই কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় এখন খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় গাছিরা। প্রচণ্ড শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে টাটকা, মিষ্টি রসের স্বাদ নিতে রসপ্রেমীরা ভিড় করছেন খেজুর বাগানগুলোতে।

​পাকুন্দিয়া উপজেলার নারান্দী গ্রামসহ অন্যান্য এলাকায় গ্রামীণ রাস্তার দুই পাশে সারি সারি খেজুর গাছ চোখে পড়ে। এসব গাছে ঝুলে থাকা রসের হাঁড়িগুলো প্রতিদিন নামিয়ে আনেন গাছিরা। ভোরের আলো ফোটার আগেই প্রচণ্ড শীত আর কুয়াশার মধ্যেই শুরু হয় রস সংগ্রহের তোড়জোড়। টাটকা রসের স্বাদ নিতে নানা বয়সি মানুষ অপেক্ষা করে রসের হাঁড়ির নিচে।

​এলাকার সকল গাছিরা এখন রস সংগ্রহ এবং বিক্রিতে চরম ব্যস্ত। শীত এলেই গাছ থেকে রস সংগ্রহের এই ধুম পুরো এলাকাকে এক উৎসবের মেজাজ এনে দেয়।

​খেজুর রসের প্রতি ভালোবাসা এতটাই যে, রসপ্রেমীরা দূর-দূরান্ত থেকে কুয়াশা ভেদ করে ছুটে আসছেন টাটকা রসের স্বাদ নিতে। দল বেঁধে তাজা রস পান করতে আসা যেন এক আনন্দময় উৎসবে পরিণত হয়েছে।

​রস বিক্রেতা জুয়েল মিয়া জানান, রসের চাহিদা এতটাই বেশি যে, ভোরের আলো ফোটার আগেই তা শেষ হয়ে যায়।

​গাছিরা সম্মিলিতভাবে জানান, প্রতিদিন যে পরিমাণ রস সংগ্রহ হচ্ছে, তা দিয়ে চাহিদার জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পাকুন্দিয়া উপজেলার নারান্দি ও হোসেন্দি ইউনিয়নে ছোট-বড় ৮৫টি গাছ থেকে দৈনিক প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কেজি খেজুর রস সংগ্রহ করা হচ্ছে।

​যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় এখন অনেক দূর থেকেও অতিথিরা রস খেতে আসছেন। কিন্তু সেই তুলনায় খেজুর গাছের সংখ্যা কম। গাছিরা মনে করেন, এলাকায় খেজুর গাছের সংখ্যা বাড়ানো গেলে এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো এবং সবার কাছে টাটকা রস পৌঁছে দেওয়া সহজ হতো।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক সংবাদের কথা

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


কিশোরগঞ্জে শীতের আমেজ টাটকা খেজুর রসের সন্ধানে রসপ্রেমীদের ঢল

প্রকাশের তারিখ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image
কিশোরগঞ্জে শীতের আমেজ টাটকা খেজুর রসের সন্ধানে রসপ্রেমীদের ঢল​কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: নিজাম উদ্দীন ​শীতকাল মানেই বাঙালির ঐতিহ্যের অংশ খেজুরের রস। শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথেই কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় এখন খেজুরের রস সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় গাছিরা। প্রচণ্ড শীত আর ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে টাটকা, মিষ্টি রসের স্বাদ নিতে রসপ্রেমীরা ভিড় করছেন খেজুর বাগানগুলোতে।​পাকুন্দিয়া উপজেলার নারান্দী গ্রামসহ অন্যান্য এলাকায় গ্রামীণ রাস্তার দুই পাশে সারি সারি খেজুর গাছ চোখে পড়ে। এসব গাছে ঝুলে থাকা রসের হাঁড়িগুলো প্রতিদিন নামিয়ে আনেন গাছিরা। ভোরের আলো ফোটার আগেই প্রচণ্ড শীত আর কুয়াশার মধ্যেই শুরু হয় রস সংগ্রহের তোড়জোড়। টাটকা রসের স্বাদ নিতে নানা বয়সি মানুষ অপেক্ষা করে রসের হাঁড়ির নিচে।​এলাকার সকল গাছিরা এখন রস সংগ্রহ এবং বিক্রিতে চরম ব্যস্ত। শীত এলেই গাছ থেকে রস সংগ্রহের এই ধুম পুরো এলাকাকে এক উৎসবের মেজাজ এনে দেয়।​খেজুর রসের প্রতি ভালোবাসা এতটাই যে, রসপ্রেমীরা দূর-দূরান্ত থেকে কুয়াশা ভেদ করে ছুটে আসছেন টাটকা রসের স্বাদ নিতে। দল বেঁধে তাজা রস পান করতে আসা যেন এক আনন্দময় উৎসবে পরিণত হয়েছে।​রস বিক্রেতা জুয়েল মিয়া জানান, রসের চাহিদা এতটাই বেশি যে, ভোরের আলো ফোটার আগেই তা শেষ হয়ে যায়।​গাছিরা সম্মিলিতভাবে জানান, প্রতিদিন যে পরিমাণ রস সংগ্রহ হচ্ছে, তা দিয়ে চাহিদার জোগান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পাকুন্দিয়া উপজেলার নারান্দি ও হোসেন্দি ইউনিয়নে ছোট-বড় ৮৫টি গাছ থেকে দৈনিক প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কেজি খেজুর রস সংগ্রহ করা হচ্ছে।​যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় এখন অনেক দূর থেকেও অতিথিরা রস খেতে আসছেন। কিন্তু সেই তুলনায় খেজুর গাছের সংখ্যা কম। গাছিরা মনে করেন, এলাকায় খেজুর গাছের সংখ্যা বাড়ানো গেলে এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানো এবং সবার কাছে টাটকা রস পৌঁছে দেওয়া সহজ হতো।

দৈনিক সংবাদের কথা

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ আর জে রানা 

কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক সংবাদের কথা । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত