লালমোহনের মিরাজ বাঁচতে চান, প্রয়োজন সহযোগিতা
মোঃ আরিফুল ইসলাম মুন্সী
জেলা প্রতিনিধি: ভোলা
একসময় তিন চাকার নছিমন চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন মো. মিরাজ। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে ছিল তাঁর ছোট্ট সংসার। স্বপ্ন ছিল, সন্তানদের মুখে হাসি ফোটাবেন, পরিবারের অভাব দূর করবেন। কিন্তু একটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা মুহূর্তেই বদলে দেয় তাঁর জীবনের গল্প। শরীরের প্রায় চার ভাগের তিন ভাগ প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে এখন তিনি শয্যাশায়ী। একসময় যাঁর উপার্জনে চলত সংসার, আজ সেই মানুষটিরই দুবেলা দুমুঠো খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভোলার লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রামের বাসিন্দা মিরাজ। তাঁর বাবার নাম মো. শফিউল্লাহ। দুর্ঘটনার পর নিজের চিকিৎসা চালাতে গিয়ে বাড়ির ভিটা ছাড়া প্রায় সবকিছুই বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানান পরিবারের সদস্যরা। তবুও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ মেলেনি। একদিকে শারীরিক যন্ত্রণা, অন্যদিকে সংসারের অভাব—সব মিলিয়ে চরম দুর্দশায় দিন কাটছে তাঁর পরিবারের।
মিরাজের সংসারে রয়েছে স্ত্রী ও তিন সন্তান। অভাবের কারণে যেখানে প্রতিদিনের খাবার জোগাড় করাই কঠিন, সেখানে বড় মেয়ের বিয়ে নিয়েও দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারের। মেয়ের ভবিষ্যৎ, ছোট সন্তানদের জীবন আর নিজের চিকিৎসা—সবকিছু নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন মিরাজ ও তাঁর স্ত্রী।
মিরাজের আকুতি, উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে হয়তো কিছুটা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ পাবেন তিনি। এ জন্য সরকারের সহযোগিতা এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি। তাঁর প্রত্যাশা, কেউ পাশে দাঁড়ালে আবারও পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখতে পারবেন।
এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ আলম জানান, মিরাজ ইতোমধ্যে সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন। চিকিৎসার জন্য আবেদন করলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁর কার্যালয় থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
মিরাজের গল্প শুধু একজন অসুস্থ মানুষের কষ্টের গল্প নয়, এটি একটি পরিবারের বেঁচে থাকার সংগ্রাম। যাঁর হাত ধরে একসময় সংসার চলত, আজ তাঁর চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করতেই হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি। এখন প্রয়োজন মানবিক সহায়তা, চিকিৎসার সুযোগ এবং সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
হয়তো একটু সহযোগিতাই বদলে দিতে পারে মিরাজের পরিবারের দিনগুলো। আবারও জাগিয়ে তুলতে পারে বেঁচে থাকার নতুন আশা।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন