ছিল একটি ওয়ার্কশপের দোকান। স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে আর বাবা-মাকে নিয়ে ছিল সুখের সংসার। নিজের উপার্জনে চলত পরিবারের খরচ, ছিল সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছে মো. ইসমাইল হোসেনের জীবনের গল্প।
মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাঁর দুই পা। একাধিকবার অস্ত্রোপচার করেও ফিরতে পারেননি স্বাভাবিক জীবনে। এখন শয্যাশায়ী ইসমাইলের কাছে পরিবারের মুখে দুবেলা খাবার তুলে দেওয়াই অনিশ্চিত।
ভোলার লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের আবুগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল। তিনি মো. আবু কালামের ছেলে। দুর্ঘটনার পর চিকিৎসা করাতে গিয়ে বিক্রি করতে হয়েছে নিজের ওয়ার্কশপের দোকান ও জমিজমা। চিকিৎসার খরচ মেটাতে হয়েছেন ঋণগ্রস্ত। এখন বসতভিটা ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই বলে জানান স্বজনরা।
একসময় নিজের উপার্জনে সংসার চালানো ইসমাইল এখন অন্যের ওপর নির্ভরশীল। একদিকে নিজের চিকিৎসা, অন্যদিকে স্ত্রী-সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের দায়িত্ব—সব মিলিয়ে অসহায় এই পরিবার।
ইসমাইলের চিকিৎসা এখনো চলমান। কিন্তু অর্থের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা, কঠিন হয়ে পড়েছে সংসার চালানোও। সঠিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে হয়তো আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন—এমন আশাই করছেন তিনি ও তাঁর পরিবার।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাসুদ জানান, দ্রুত ইসমাইলকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি যেন ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভরশীল না হন, সে জন্য জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
একসময় নিজের শ্রমে সংসার চালানো ইসমাইল এখন চান, আবার যেন পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারেন। সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারেন নিজের উপার্জনে। চিকিৎসা চালিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
এই কঠিন সময়ে সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও চিকিৎসা ও পরিবারের জীবিকা নির্বাহে সহযোগিতা কামনা করেছেন ইসমাইল।
সহযোগিতার জন্য
নাম: মো. ইসমাইল হোসেন
বিকাশ/নগদ: 01922601415
ঠিকানা: আবুগঞ্জ বাজার, লালমোহন, ভোলা।

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

আপনার মতামত লিখুন