বগুড়ায় ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া ভণ্ড ‘জ্বিনের বাদশা’ মহিদুল গ্রেফতার—ডিবির অভিযানে প্রতারণা চক্রের মূলহোতা আটক
মো:ওসমান গনী:শিবগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি :
বগুড়ায় ভণ্ড জ্বিনের বাদশা পরিচয়ে অলৌকিক ক্ষমতার ফাঁদ পেতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক মহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখা। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে প্রতারণায় ব্যবহৃত কথিত অলৌকিক আলামত।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ নভেম্বর সোনাতলা থানায় একটি প্রতারণা মামলা করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার মোমিনুর রহমান (৬৫)। বাদীর অভিযোগ—মহাস্থান এলাকায় এক ইসলামী জলসায় তার সঙ্গে মহিদুলের পরিচয় হয়। সেখান থেকেই শুরু প্রতারণার সূচনা।
বাদী জানান, গত ০৭/০৯/২০২৫ তারিখে সন্ধ্যায় তার মেয়ের মাধ্যমে খবর পান মহিদুলের বাড়িতে ইসলামিক জালসা চলছে। সে অনুযায়ী তিনি আরও ছয়জনকে নিয়ে সেখানে যান। পরদিন খাবারের সঙ্গে ওষুধ-মেডিসিন বা ঝাঁড়ফুঁক জাতীয় কিছু খাইয়ে তাকে অস্বাভাবিক অবস্থায় রাখা হয়, যাতে তিনি কোনো যৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারেন। পরে টানা ৭ দিন তাকে আটকে রেখে বিভিন্নভাবে নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে মোট ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র।
ঘটনার পর সোনাতলা থানায় মামলা নং–০২, তাং–০৪/১২/২৫ খ্রি. ধারা–৪২০/৩৮৬/৩৪/৫০৬ এর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় মামলা রুজু হয়।
মামলার পর জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আরিফুল ইসলাম–২ এর নেতৃত্বে একটি চৌকস ডিবি টিম সোনাতলার রানিরপাড়া গ্রামে মহিদুলের বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করে। এসময় উদ্ধার করা হয়—
• ০২টি কথিত হাড়
• ০২টি সুরমা দানি
• ০৩টি লাল কাপড়
• ০১টি আতর
• ০২টি তাবিজ
• ০৩টি সাদা কাপড়
• ০৩টি তসবিহ
• ০৫টি আগরবাতি
• কালো সুতা
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মহিদুল স্বীকার করে, তিনি ‘কবিরাজি চিকিৎসা’, ‘অলৌকিক ক্ষমতা’ ও ‘জ্বিনের বাদশা’ পরিচয়ে বিভ্রান্ত করে বহু মানুষের কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে টাকা হাতিয়ে আসছিলেন।
গ্রেফতারকৃত মহিদুল ইসলামকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫

আপনার মতামত লিখুন